রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১২

শোয়াইব জিবরান সম্পাদিত ‘শিক্ষাচিন্তা’, বাংলার শিক্ষাচিন্তা সংখ্যা, প্রবন্ধ- ৫



যুগের বাস্তবতায় শিক্ষাবিদ বেগম রোকেয়া
মনিরা হোসেন

নির্দিষ্ট সময়খণ্ডের ভেতর পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মনৈতিক, অর্থনৈতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলের প্রেক্ষিতেই গড়ে উঠে একজন ব্যক্তির মানস কাঠামো আর তাঁর সেই মানসকাঠামোর ভিত্তিতেই পরিচালিত হয় তাঁর কর্ম বেগম রোকেয়ার শিক্ষাচিন্তা ও কর্মকে তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা এ প্রেক্ষিতেই বিচার করব
বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন বা রোকেয়া খাতুন এর সমকাল, সমাজ, কর্মজীবন, লেখালেখির জীবন নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মধ্যে দিয়ে এ প্রবন্ধে আমরা শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা করব
১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার অন্তঃপাতী পায়রাবন্দ গ্রামে রোকেয়ার জন্ম, তাঁর পিতা জহীর মোহাম্মদ আবু আলী সাবের সম্ভ্রান্ত ভূস্বামী ছিলেন বেগম রোকেয়ার দুই ভাই ও দুই বোন ১৬ বৎসর বয়সে বেগম রোকেয়ার বিয়ে হয় ভাগলপুরের উর্দুভাষী ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সাথে যেহেতু সাখাওয়াত হোসেন নিজে উচ্চ শিক্ষার্থে বিদেশ গিয়েছিলেন এবং তাঁর বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষিত ছিলেন তাই এই বিয়ে রোকেয়ার সাহিত্যচর্চা বা নিজস্ব প্রতিভার বিকাশে যথেষ্ট সহায়ক হয়েছিল সাহিত্যানুরাগী স্বামীর উৎসাহে রোকেয়া সাহিত্য জগতে প্রবেশ করলেন এ সময় রোকেয়া রচনা করেন আমাদের অবনতিও ঝঁষঃধহধং উৎবধস সাবলীল ইংরেজি ভাষায় লিখিত ঝঁষঃধহধং উৎবধস ১৯০৫ সালে ওহফরধহ খধফরবং গধমধুরহব এ প্রকাশিত হয়েছিল বই আকারে এটি প্রকাশিত হয় ১৯০৮ সালে এবং পরে রোকেয়া নিজেই এর বাংলা অনুবাদ করেন তিনি দুই সন্তানের জন্ম দিলেও দুঃখজনকভাবে তাদের কেউ এক বৎসরকালও বাঁচে নি স্বামী সাখাওয়াত হোসেন বহুমূত্র ও অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯০৯ সালের ৩ মে মারা যান এবং তারপর রোকেয়ার নিজের ভাষ্যমতে তিনি ২২ বৎসর যাবৎ বৈধব্যের আগুনে পুড়েছেন এবং ব্যর্থ জীবন নিয়ে হেসে-খেলে দিন গুনেছেন
রোকেয়ার অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা জীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যাবে, প্রচলিত কঠোর সামাজিক ও পারিবারিক পর্দাপ্রথার কারণে বেগম রোকেয়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পান নি তবে তিনি শুধুমাত্র অতি কড়া পর্দাপ্রথার মধ্যে আটকে পড়া ছাড়া পারিবারিক সদস্যদের আচরণজনিত কারণে অন্য কোন ধরনের বড় ধরনের বিধি নিষেধের বেড়াজালে পড়েন নি ধনী, শিক্ষিত, প্রগতিশীল পরিবারটির কাঠামো এবং ভাইদের মনমানসিকতা এমন ছিল যে বড় ভাই ইব্রাহিম সাবেরের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে বড় বোন করিমুন্নেসা ও রোকেয়া বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষায় অনেকখানি অগ্রসর হয়েছিলেন এবং বেগম রোকেয়া এই সাহায্যের কারণেই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তাঁর উপন্যাস পদ্মরাগঅগ্রজের নামে উৎসর্গ করেছেন (দাদা আমাকে তুমিই হাতে গড়িয়া তুলিয়াছ”) পিতা যেহেতু সম্ভ্রান্ত মুসলিম ভূস্বামী ছিলেন তাই বাড়িতে আরবি ভাষার এবং কোরান পাঠের চর্চা ছিল বাল্যকালে বাংলা বই পড়ার প্রতি বড় বোন করিমুন্নেসার আসক্তি দেখে তার পড়া বন্ধ করে নানা-বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হয়, এর একটি ব্যাখ্যা এরকম হতে পারে, তৎকালীন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বাংলা ভাষার চর্চা করা কৌলিন্যের মাপকাঠি হিসেবে গণ্য হত না মওলানা আবুল কালাম আজাদের ইন্ডিয়া উইনস ফ্রিডমগ্রন্থ থেকে একটি উদ্ধৃতি উপস্থাপন করলে উপমহাদেশের তৎকালীন মুসলমানদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্বন্ধীয় চিত্রটি আরো স্বচ্ছ হবে -
ঞযব ড়ষফ ংুংঃবস ড়ভ বফঁপধঃরড়হ ভড়ৎ গঁংষরসং রহ ওহফরধ ধিং ঃযধঃ ঃযব নড়ুং বিৎব ভরৎংঃ ঃধঁমযঃ চবৎংরধহ ধহফ ঃযবহ অৎধনরপ, সু ভধঃযবৎ যধফ ঃধঁমযঃ সব ধঃ যড়সব ধং যব ফরফ হড়ঃ ষরশব ঃড় ংবহফ সব ঃড় ধহু গধফৎধংধ ... . ঞযরং ধিং ধ ঢ়বৎরড়ফ ড়ভ মৎবধঃ সবহঃধষ পৎরংরং ভড়ৎ সব, ও ধিং নড়ৎহ রহঃড় ধ ভধসরষু যিরপয ধিং ফববঢ়ষু রসনঁবফ রিঃয ৎবষরমরড়ঁং ঃৎধফরঃরড়হং. অষষ ঃযব পড়হাবহঃরড়হং ড়ভ ঃৎধফরঃরড়হধষ ষরভব বিৎব ধপপবঢ়ঃবফ রিঃযড়ঁঃ য়ঁবংঃরড়হ ধহফ ঃযব ভধসরষু ফরফ হড়ঃ ষরশব ঃযব ষবধংঃ ফবারধঃরড়হ ভৎড়স ড়ৎঃযড়ফড়ী ধিুং. ও পড়ঁষফ হড়ঃ ৎবপড়হপরষব সুংবষভ রিঃয ঃযব ঢ়ৎবাধরষরহম পঁংঃড়সং ধহফ নবষরবভং ধহফ সু যবধৎঃ ধিং ভঁষষ ড়ভ হবি ংবহংব ড়ভ ৎবাড়ষঃ. (ঢ়. ১৭)
মওলানা আজাদ বয়সের দিক দিয়ে বেগম রোকেয়ার চেয়ে মাত্র ৮ বৎসরের ছোট ছিলেন বলে ধরে নেয়া যায় যে, রোকেয়ার সময়কার শিক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত অবস্থা ধনী পরিবারের মুসলমান ছেলে এবং মেয়ের জন্য খুব একটা পৃথক ছিল না
রোকেয়া তাঁর স্বামীর লিখিত উইল বলে ১০,০০০ টাকা পেয়েছিলেন একটি মুসলমান বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনার জন্য এই অর্থ সাহায্যে বিহারের ভাগলপুরেই প্রথমে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল শুরু হয় পারিবারিক মতভেদের কারণে কলকাতায় চলে এসে ১৯১১ সালে ১৬ মার্চ আটজন ছাত্রী নিয়ে রোকেয়া নতুনভাবে স্কুল শুরু করেন তবে উল্লেখ্য, রোকেয়া ভাগলপুরেই ১৯০৯ সালে পাঁচটি হলেও মুসলমান ছাত্রী পেয়েছিলেন এর সামাজিক কারণ এরকম হতে পারে একজন সম্ভ্রান্ত পরিবারের মুসলিম মহিলা ও সম্ভ্রান্ত এবং উঁচুদরের সরকারি প্রশাসকের বিধবা স্ত্রী শুধুমাত্র মুসলমান মেয়েদের জন্য স্কুল পরিচালনা করবেন এবং এর ভাষা মাধ্যম হবে উর্দূ -এ সংবাদ নিশ্চয়ই বিহারের উর্দূভাষী পিতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল এত বৎসর পরও কলিকাতায় এই বিখ্যাত স্কুলটি টিঁকে আছে, সমাজের কোন সহযোগিতা না থাকলে নিশ্চয়ই তা সম্ভব হত না
দীর্ঘ ২৯ বৎসর রোকেয়া স্কুলের যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার পাশাপাশি লেখালেখিও করেছেন বনেদি মুসলমান বংশের মেয়ে ও বধূ হওয়ার সুবাদে তৎকালীন সমাজে রোকেয়ার মাথা উঁচু করে চলতে ও সত্য কথা বলতে সাহসের অভাব হয় নি তবে এও সত্য যে, রোকেয়াকে এই পর্দাপ্রথা ও সামাজিক কঠোর নিয়মের বেড়াজাল কেন্দ্র করে সমালোচনামূলক লেখালেখির জন্য অনেক কটু কথা শুনতে হয়েছে নবনূর মাসিক পত্রিকায় তিনি সামাজিক বিভিন্ন বৈষম্যের কথা অবলীলাক্রমে লিখে গেছেন স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য এবং ছোটবেলা থেকে উচ্চ শিক্ষিত ভাইদের, স্বামীর সাথে মেলামেশার ফলে তার প্রতিটি কাজকর্মে চারিত্রিক দৃঢ়তা অত্যন্ত স্পষ্ট হয়ে ওঠে
মুসলমান বালিকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান একজন মুসলমান মহিলা এটা সে সময়কার পুরুষ-প্রধান সমাজ মোটামুটি মেনে নিয়েছিল স্কুল পরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কার কাছ থেকে কিভাবে রোকেয়া পেয়েছিলেন সে সম্বন্ধে কোন তথ্য সংগ্রহ করা সহজসাধ্য কাজ নয় তবে স্কুলের মান সম্পর্কে মাধ্যমিক তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব বাংলা একাডেমী প্রকাশিত ‘‘বেগম রোকেয়া রচনাবলী’’ (১৯৯৩) পৃ. ৯ এর তথ্য মতে ‘‘রোকেয়ার অক্লান্ত সাধনায় স্কুলটি একটি প্রথম শ্রেণীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়েছে
স্কুল সম্পর্কে বেগম রোকেয়া তাঁর বোন করিমুন্নেসাকে লিখেছেন -
... অতপর কলিকাতায় আসিয়া ১১ বৎসর যাবৎ এই উর্দু স্কুল পরিচালনা করিতেছি, এখানে পরিচালিকা, ছাত্রী, শিক্ষায়িত্রী ইত্যাদি সকলেই উর্দু-ভাষিণী প্রাতকাল হইতে রাত্রি পর্যন্ত উর্দূ ভাষাতেই কথা কহিতে হয়” (মতিচুর, দ্বিতীয় খণ্ড, ১৩২৮)
মেহের কবীরের লেখা থেকে একটি সাধারণধর্মী তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, ১৯১৬ সালে সরোজিনী নাইডু (খুব সম্ভবত এক পত্রে) রোকেয়াকে লিখেছেন, “... ঐড়ি ফববঢ়ষু ও যধাব ধফসরৎবফ ুড়ঁৎ ংধপৎরভরপব ধহফ ফবাড়ঃরড়হ রহ হড়ঃ ড়হষু ভড়ঁহফরহম নঁঃ ংড় ধনষু ংঁংঃধরহরহম ুড়ঁৎ ড়িৎশ ড়ভ বফঁপধঃরড়হ ভড়ৎ গঁংষরস মরৎষং’’. স্কুলে কি পদ্ধতিতে শিক্ষা দেওয়া হতো তা খুব স্বচ্ছভাবে জানা সম্ভব নয় অবশ্য জানা গেছে, বেগম রোকেয়ার স্কুলে মাত্র একজন বাঙালি শিক্ষিকা ছিলেন
রোকেয়া সমাজ বা মানুষের রক্তচক্ষুকে কখনো ভয় পান নি রক্তচক্ষুকে নিজে ভয় না পেলেও অন্য লোকের যেন কোন ক্ষতি না হয় সে দিকে তিনি অবশ্য দৃষ্টি রাখতেন তাঁর স্কুলের ছাত্রীদের জন্য প্রস্তুতকৃত মোটরবাস যখন প্রথম দিন রাস্তায় নামল তখন এর পক্ষে এবং বিপক্ষে প্রচুর কথা উঠল কারণ ‘‘বাসের পশ্চাতের দ্বারের উপর সামান্য একটু জাল আছে এবং সম্মুখ দিকে ও উপরে একটু জাল আছে এই তিন ইঞ্চি চওড়া দেড় ফুট লম্বা জাল দুই টুকরা না থাকিলে বাসখানকে সম্পূর্ণ এয়ার টাইটবলা যাইতে পারিত - এই অবস্থার প্রেক্ষিতে পক্ষে এবং বিপক্ষে যে প্রতিবাদের ঝড় উঠল তা এই রকম ঃ তৃতীয় দিন অপরাহ্নে চারি পাঁচজন ছাত্রীর মাতা দেখা করিতে আসিয়া বলিলেন, ‘‘আপকা মোটরত খোদা কা পানাহ আপ লড়কীয়োঁ কো জীতে জী কব্বর মে ভর রহি হয় অন্যপক্ষে তিনি সন্ধ্যার পর চারিখানা ঠিকানা রহিত ডাকের চিঠি পেলেন চতুর্থখানায় পাঁচজনের স্বাক্ষর ছিল, বক্তব্য এইরকম ছিল - মোটরের দুই পার্শ্বে যে পর্দা দেয়া হইয়াছে তা বাতাসে উড়িয়া গাড়ী বে-পর্দা করে যদি আগামীকাল পর্যন্ত মোটরে ভাল পর্দার ব্যবস্থা না করা যায়, তবে তাহারা ততোধিক দয়া করিয়া খবিছ’, ‘পলীদপ্রভৃতি উর্দু দৈনিক পত্রিকায় কুৎসা রটনা করিবেন, এবং দেখিয়া লইবেন এরূপ বে-পর্দা গাড়ীতে কি করিয়া মেয়ে আসে
বেগম রোকেয়ার অনানুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন পর্যালোচনা করে বোঝা যায়, বাবার বাড়িতে বড় ভাইয়ের এবং পরবর্তীতে স্বামীর উৎসাহে রোকেয়া আরবি, ইংরেজি, বাংলা, উর্দু মোটামুটি চারটি ভাষার চর্চা অব্যাহত রেখেছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী ও সাহিত্য-প্রতিভার অধিকারিণী এবং স্বাধীনচেতা মহিলা ছিলেন বলেই একসঙ্গে এতগুলো ভাষায় মোটামুটি সাবলীল পদচারণা করেছেন রোকেয়া কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ না করেও শুরু থেকেই রোকেয়া সাহিত্য এবং শিক্ষা জগতে যুগপৎ বলিষ্ট পদচারণা করেছেন
বাংলা ১৩১২ সালের নবনূরের গ্রন্থ-সমালোচনাঅংশে রোকেয়ার লেখনী সম্বন্ধে    মন্তব্য এরূপ -
সমাজ সংস্কার করা এক কথা, আর সমাজকে বেদম চাবুক মারা আর এক কথা চাবুকের চোটে সমাজ দেহে ক্ষত হইতে পারে কিন্তু তদ্বারা সমাজের কোন ক্ষতি বা অভাব পূরণ হয় না
আজও মেয়েদের শারীরিক দৌর্বল্য কোন না কোন দিক থেকে অত্যন্ত নির্মমভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে ভিন্ন অর্থে বলা হলেও আমাদের দেশের সামাজিক বাস্তবতা একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেও আমাদের পীড়া দিচ্ছে নারী নির্যাতন, শিশুকন্যা ধর্ষণ এসব এখন দৈনিক সংবাদপত্রে খুব বড় অক্ষরে প্রকাশিত হয়ে আসছে যা যে কোন সমাজ সচেতন, বিবেকবান লোকের বিবেককে দারুণ পীড়া দিচ্ছে কিন্তু এ ব্যাধির হাত থেকে কিরূপে দিক নির্দেশনা মুক্তি ঘটবে এমন আশা তো কেউ দিতে পারছেন না
কাজী আবদুল ওদুদ রোকেয়া সম্বন্ধে লিখেছেন, ‘‘এ যুগের মুসলমান সাহিত্যিকদের মধ্যে চিন্তার ক্ষেত্রে বিশেষ গৌরবের আসন এই তিনজনের : মিসেস আর এস হোসেন, কাজী ইমদাদুল হক ও লুতফর রহমান ... মিসেস আর এস হোসেনের প্রতিভা একালের ভগ্ন হৃদয় মুসলমানের জন্য যেন এক দৈব আশ্বাস’’ সবাই যে একবাক্যে তাঁকে সমালোচনা করেছেন তা কিন্তু এই মন্তব্যের দ্বারা অসত্য বলে প্রমাণিত হচ্ছে অবরোধবাসিনীগ্রন্থের প্রথম সংস্করণে ভূমিকা লিখেছিলেন তৎকালীন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল ইন্সপেক্টর মৌলভি আবদুুল করিম দেখা যাচ্ছে মুসলিম সমাজের প্রতিষ্ঠিত কিছু ব্যক্তি তাঁকে সহযোগিতা করেছেন, তাঁকে প্রেরণা জুগিয়েছেন, আবার একই সাথে অনেকে তাঁকে বাক্যবাণে জর্জরিত করেছেন ১৩১২ ভাদ্রে নববধূ পত্রিকার গ্রন্থ-সমালোচনাবিভাগে মতিচুরপ্রসঙ্গে বলা হয়, ‘‘মতিচুর রচয়িতা কেবল ক্রমাগত সমাজকে চাবকাইতেছেন, ইহাতে যে কোন সুফল ফলিবে আমরা এমন আশা করিতে পারি না মতিচুর২য় খণ্ড সম্পর্কে ১৩২৮ অগ্রহায়ণের মোসলেম ভারতেবলা হয়-
পুস্তকখানি পড়িলেই বোঝা যায় গ্রন্থকর্ত্রী আত্মযশ লিপ্সায় প্রণোদিত হইয়া লেখনী ধারণা করেন নাই, পক্ষান্তরে ভূয়োদর্শনের ফলে তাহার হৃদয়ে যে বেদনার সুর বাজিয়া উঠিয়াছে, তাহাকেই তিনি নানা কথায় নানা ছলে ব্যক্ত করিবার চেষ্টা করিয়াছেন  মোটের উপর গ্রন্থের ভাষা অতি সুন্দর ও সরস রচনার বিশুদ্ধিতা প্রত্যেক সুধী পাঠ করে প্রীতিদান করিবে ... মুসলমান নারী সমাজ এ গ্রন্থের জন্য যে আপনাদিগকে গৌরবান্বিতা বোধ করিবেন তাহাতে আমাদের সন্দেহ নাই
মেহের কবীর প্রতিপন্ন করতে চেয়েছেন - রোকেয়ার লেখনি চর্চার মূল লক্ষ্য ছিল সমাজে জাগরণ আনা, রোকেয়ার রচনাগুলো পড়লে সেরকমই মনে হতে পারে (মেহের কবীর, ‘রোকেয়া স্মরণে’, সংবাদ ক্রোড়পত্র, ১৯৯৭, ঢাকা, পৃ. ৯) ১৩১২ সালের নবনূরপত্রিকায় ভাদ্র মাসের সংখ্যা গ্রন্থ সমালোচনাবিভাগে মতিচুর প্রসঙ্গে বলা হয়েছিল ‘‘খৃষ্টধর্ম প্রচার করিতে আসিয়া আমাদের সম্বন্ধে পাদরী সাহেবগণ যাহা বলেন বা বলিয়াছেন; লেখিকার নিকট তাহা অভ্রান্ত সত্যরূপেই পরিগণিত হইয়াছে তাঁহার মতে আমাদের সবই কু, আর ইউরোপ, আমেরিকার সবই সু
এটা ধ্রব সত্য যে, আদিকাল ত বটেই আজো উন্নয়নশীল সমাজব্যবস্থায় বিশেষ করে গ্রামীণ সমাজে শিশু বয়সেই ছেলে ও মেয়েদের পৃথক জীবনবৃত্ত চিহ্নিত হয়ে যায় পৃথক এই জীবনবৃত্তকে রোকেয়া মোটেই মেনে নেননি; প্রত্যেক মুহূর্তেই বিদ্রোহ করেছেন; ছোটবেলায় বিদ্রোহ করেছেন ঘরে বসেই বাংলা, ইংরেজি শিখে, বিয়ের পর করেছেন ইংরেজি ভাষায় সাহিত্যচর্চা শুরু করে, স্বামীর মৃত্যুর পর করেছেন মুসলিম নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রেখে স্কুল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করে রোকেয়া বাংলা ১৩১২ সালে তাঁর প্রকাশিত রচনা সম্বন্ধে যে সমস্ত সমালোচনা বের হয়েছিল তার উত্তরে লিখেছিলেন, ‘‘পাঞ্জাব, ডেকান, বোম্বাই, ইংল্যান্ড - সর্বত্র হইতে একই ভাবের উচ্ছ্বাস উত্থিত হয় কেন? তদুত্তরে বলা যাইতে পারে - ইহার কারণ সম্ভবত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অবলাবৃন্দের আধ্যাত্মিক একতা এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক উক্তি তবে ধনাত্মক উক্তিও অনেকে করেছেন
১৩১২ সালের নবনূর পত্রিকায় ‘‘গ্রন্থ-সমালোচনা’’ লেখেন মুনশী কবি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ ও সম্পাদক সৈয়দ এমদাদ আলী মতিচুরপ্রসঙ্গে বেগম রোকেয়া সম্পর্কে একটি মন্তব্য করেছিলেন যা তাঁর চরিত্রের দৃঢ়তাসহ অন্যান্য গুণাবলীর কথা প্রকাশ করে :
বেগম রোকেয়া সমাজ ও সংসারের সকল ক্ষেত্রে নারীর ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রবর্তন করেন পাশ্চাত্যে তার পুরোধা ছিলেন ম্যারী উলস্টোন ক্র্যাফ্ট
রোকেয়া এই শতকের প্রথমেই লেডীজ কনফারেন্স’, স্বাস্থ্য ও শিশু প্রদর্শনী ইত্যাদি সভায় যোগদানের জন্য বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে গেছেন, বিবিন্ন স্থান ভ্রমণ করেছেন, ভাষণ দিয়েছেন কলিকাতা টাউন হলেও তিনি প্রবন্ধ পাঠ করেছেন নিজের স্বামী, সন্তান না থাকায় পারিবারিক কাঠামোর যে শূন্যতা তাঁর চারপাশে ছিল তার খানিকটা তিনি দূর করেছেন সৎ মেয়ের স্বামী এবং তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও পরিবারের সাথে ঘনিষ্ট হয়ে
বেগম রোকেয়া লেডীজ কনফারেন্স উপলক্ষ্যে আলীগড় গিয়েছিলেন সেই কনফারেন্সে সভানেত্রী হিসেবে তিনি যে ভাষণ দিয়েছিলেন তার অংশবিশেষ থেকে কিছু বিশেষ বক্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে
শ্রদ্ধাস্পদা ভগিনী মিসেস লিন্ডসে আমাকে মুসলমান বালিকাদের শিক্ষা সম্বন্ধীয় অভাব অভিযোগের কথা বলিতে অনুরোধ করিয়াছেন সমবেত সুশিক্ষিত গ্রাজুয়েট মহিলাদের সম্মুখে এ সম্বন্ধে কিছু বলিতে পারি, এমন যোগ্যতা আমার নাই তবে ২০/২১ বৎসর হইতে সাহিত্য ও সমাজ সেবা করিয়া, বিশেষতঃ ১৬ বৎসর যাবৎ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল পরিচালনা করিয়া যতটুকু অভিজ্ঞতা অর্জন করিয়াছি, তাহাই আপনাদের সম্মুখে উপস্থিত করিতে সাহস করিতেছি
স্ত্রী-শিক্ষার কথা বলিতে গেলেই আমাদের সামাজিক অবস্থার আলোচনা অনিবার্য হইয়া পড়ে আর সাামজিক অবস্থার কথা বলিতে গেলে, নারীর প্রতি মুসলমান ভ্রাতৃবৃন্দের অবহেলা, ঔদাস্য এবং অনুদার ব্যবহারের প্রতি কাটাক্ষপাত অনিবার্য হয় প্রবাদ আছে, ‘‘বলিতে আপন দুঃখে পরনিন্দা হয়’’
পৃথিবীতে যিনি সর্বপ্রথম পুরুষ স্ত্রীলোককে সমভাবে সুশিক্ষা দান করা কর্তব্য বলিয়া নির্দেশ করিয়াছেন, তিনি আমাদের রসুল মকবুল (অর্থাৎ পয়গাম্বর সাহেব) তিনি আদেশ করিয়াছেন যে, শিক্ষালাভ করা সমস্ত নরনারীর অবশ্য কর্তব্য তের শত বৎসর পূর্বেই আমাদের জন্য এই শিক্ষাদানের বাধ্যতামূলক আইন পাশ হইয়া গিয়াছে কিন্তু আমাদের সমাজ তাহা পালন করে নাই, পরন্তু ঐ আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করিয়াছে এবং তদ্রƒপ বিরুদ্ধাচরণকেই বংশ-গৌরব মনে করিতেছে এখনও আমার সম্মুখে আমাদের স্কুলের কয়েকটি ছাত্রীর অভিভাবকের পত্র মজুত আছে - যাহাতে তাঁহারা লিখিয়াছেন যে, তাঁহাদের মেয়েদের যেন সামান্য উর্দু ও কোরান শরীফ পাঠ ছাড়া আর কিছু বিশেষত ইংরাজী শিক্ষা দেওয়া না হয় এই ত আমাদের সামাজিক ব্যবস্থা
স্থানীয় ভাষা বলিতে অন্য স্থানের ভাষা যাহাই হউক, কলিকাতার ভাষা কি হইবে? ষোল বৎসর যাবৎ এই সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল পরিচালনার ফলে আমি এই জ্ঞান লাভ করিয়াছি যে, এখানকার মুসলমানেরা মাতৃহীন - অর্থাৎ আমাদের মাতৃভাষা নাই তাহারা উর্দুকে মাতৃভাষা বলিয়া দাবী করে বটে; কিন্তু এমন বিকৃত উর্দু বলে যে, তাহা শুনিলে শ্রবণবিবর ক্ষত-বিক্ষত হয় যাহা হউক, তথাপি উর্দু এবং বাঙ্গালা উভয় অনুবাদই শিক্ষা দিতে হইবে আমার অমুসলমান ভগিনীগণ! আপনারা কেহ মনে করিবেন না যে, প্রাথমিক শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গে কোরান শিক্ষা দিতে বলিয়া আমি গোঁড়ামীর পরিচয় দিলাম তাহা নহে, আমি গোঁড়ামী বহুদূরে প্রকৃত কথা এই যে, প্রাথমিক শিক্ষা বলিতে যাহা কিছু শিক্ষা দেওয়া হয়, সে সমস্ত ব্যবস্থাই কোরানে পাওয়া যায় আমাদের ধর্ম ও সমাজ অক্ষুণœ রাখিবার জন্য কোরান শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন
স্ত্রীলোকদের উচিত যে, তাঁহারা বাক্স-বন্দী হইয়া মালগাড়ীতে বসিয়া সশরীরে স্বর্গলাভের আশায় না থাকিয়া স্বীয় কন্যাদের সুশিক্ষায় মনোযোগী হন কন্যার বিবাহের সময় যে টাকা অলঙ্কার ও যৌতুক ক্রয়ে ব্যয় করেন, তাহারই কিয়দংশ তাহারে সুশিক্ষায় ও স্বাস্থ্য রক্ষায় ব্যয় করুন স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য শারীরিক ব্যায়াম চর্চা করা প্রয়োজন; আর প্রয়োজন বিশুদ্ধ বাতাসের আল্লাহর দান বিশুদ্ধ বাতাস বিনা পয়সায় গ্রহণ করিতে মহিলাগণ কেন অনিচ্ছুক, আমি তাহা বুঝিতে পারি না শীতকালে তাঁহারা এরূপভাবে জানালা-দ্বার, বিশেষতঃ সার্সী বন্ধ করিয়া রাখেন যে, আমার মনে হয়, গভর্নমেন্ট কেন আইন করিয়া দ্বার-জানালার সার্সী ব্যবহার করা নিষিদ্ধ করেন না পাঁচ ছয় বৎসর হইল, ডাক্তার মিস কোহেন বালিকা-বিদ্যালয়সমূহের ছাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ভারপ্রাপ্ত হইয়াছিলেন আমাদের স্কুলের কতিপয় বালিকার স্বাস্থ্যের রিপোর্ট যখন তাহাদের মাতার নিকট এই অনুরোধ সহ গেল যে, ‘‘আপনারা অনুগ্রহপূর্বক শীঘ্র ডাক্তার দ্বারা চিকিৎসা করুন’’, তাহাতে তাঁহারা চটিয়া এই উক্তর দিলেন, ‘‘স্কুলমে লাড়কী পড়নে কো দিয়া হায়, না বিচার করনে কো, কে, আখ কমজোর, দাঁত কম-জোর, হলক মে ঘাও হায়, ফেঁফড়া খারাব হ্যায়! ইয়ে সব বোলনে সে হামারী লাড়কী কা শাদী ক্যায়সে হোগা? ইয়ে সব বাৎ রহনে দে, হামারী লাড়কী কো ডাক্তারনীসে না দেখায়ে!’’ ইয়া আল্লাহ! মেয়ের প্রাণ লইয়া টানাটানি, অথচ শাদীর চিন্তায় মায়ের চোখে ঘুম ধরে নাই ফল কথা, অশিক্ষিতা মাতার নিকট ইহাপেক্ষা আর কি আশা করা যাইতে পারে?
আমাদের স্কুলের ছাত্রীগণ পরীক্ষার সময় প্রায়শঃ ভূগোল, ইতিহাস এবং স্বাস্থ্য সম্বন্ধীয় বিষয়ে অকৃতকার্য (ফেল) হয়; ইহার কারণে এই যে, তাহারা নিজেদের বাসভবন এবং স্কুল-গৃহ ব্যতীত দুনিয়ার আর কিছুই দেখিতে পায় না, এই দুনিয়ায় তাহাদের পিতা ও ভ্রাতা ছাড়া আরও কেহ আছে কিনা, তাহা তাহারা জানে না; রুদ্ধ বায়ুপূর্ণ কক্ষে আবদ্ধ থাকিয়া মা-মাসীকে অনবরত রোগ-ভোগ ও স্বাস্থ্য নষ্ট করিতে দেখে তাহারা কেবল জানে, অসুখ হইলে ডাক্তার ডাকিতে হয় এই সকল কু-রোগের একমাত্র ঔষধ সুশিক্ষা’’
বেগম রোকেয়ার সময়কার আর একজন দেশীয় শিক্ষাবিদ এবং বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রবীন্দ্রনাথের দুই একটি কার্যকলাপ তুলে ধরলে বেগম রোকেয়াকে বিচার করা হয়ত কিছুটা সহজ হবে ১৯০১ সালে রবীন্দ্রনাথ আশ্রম বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন ১৯০৩ সাল থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত এই আশ্রম বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগ্রহ রবীন্দ্রনাথের দুশ্চিন্তার মুখ্য কারণ ছিল তিনি চাইতেন বিনয়ী, ধৈর্যশীল, স্নেহপরায়ণ, জ্ঞান বিজ্ঞানের পূজারি এবং সেবা পরায়ন শিক্ষক (মজুমদার, পৃ. ১৭) রবীন্দ্রনাথ দেখতেন শিক্ষকগণ কতটা আশ্রম বিদ্যালয়ের আদর্শ নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে প্রকৃত শিক্ষক হতে পারলেন
অরুণ মজুমদার তাঁর ‘‘রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী এবং বাঙালী মধ্যবিত্ত মন’’ গ্রন্থে লিখেছেন ‘‘রবীন্দ্রনাথ প্রচলিত ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থার বিকল্প একটি সৃজনশীল ও মানবতাবাদী শিক্ষাচিন্তার প্রয়োগভিত্তিক অন্বেষণে ব্যস্ত ছিলেন
অবরোধবাসিনীবইটি পড়লে বেগম রোকেয়াকে স্কুল পরিচালনার কাজে কি রকম ধৈর্য ও বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হত তার খানিকটা পরিচয় পাওয়া যায় মেয়েদের স্কুলের প্রধান শিক্ষয়িত্রীর মত একটি সম্মানজনক অবস্থানে ছিলেন তবুও বেগম রোকেয়া এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সমসাময়িক সমাজব্যবস্থা থেকে মাঝে মধ্যে বড় রকমের আক্রমণের মুখোমুখি হতেন, প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সমাজের বিরাগভাজন বেশি হয়েছেন সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবার লক্ষ্যে প্রবল ক্ষুরধার লেখনির কারণে; মেহের কবীর লিখছেন, “স্কুল সম্পর্কে মানুষের উদাসীনতা তাঁকে অনেক সময় ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত করেছে
বিগত শতাব্দী পর্যন্ত প্রাচ্য এবং প্রতিচ্যে শিক্ষাবিদরা নিজস্ব চিন্তাধারা প্রতিফলনের লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে নিজেই পরীক্ষামূলকভাবে কাজ করেছেন
সময়ের সাথে সাথে দেখা যাচ্ছে এখন আর শিক্ষাবিদরা নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলনের জন্য বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিকতার বেড়াজালের মধ্যে চলে গেছে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণীত শিক্ষাক্রম, পাঠ্যসূচি এবং মুদ্রিত পাঠ্যপুস্তক অনুযাযী পরিচালিত হয়
 বেগম রোকেয়া তাঁর সময়ের প্রেক্ষাপটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে, পরিচালনা করে, শিক্ষা বিশেষত নারীশিক্ষা সম্পর্কে লেখনি চালিয়ে তাঁর শিক্ষা দর্শনের প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন তাঁর এ শিক্ষাচিন্তা বর্তমান সময়ে কতটা প্রাসঙ্গিক এ আলোচনায় না গিয়ে যুগের বাস্তবতায় তাঁকে বিচার করতে হবে এ বিচারে বেগম রোকেয়াকে বিশ শতকের বাঙালি মুসলিম নারী শিক্ষার একজন অগ্রদূত হিসেবে চিহ্নিত করা যায় নিঃসন্দেহে


গ্রন্থপঞ্জি
১.     বেগম রোকেয়া রচনাবলি, বাংলা একাডেমী, ঢাকা, ১৯৮৫
২.     অরুণ মজুমদার, রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী ও বাঙালী মধ্যবিত্ত মন, কলিকাতা, ২০০১
৩.    বাঙলা দেশে উচ্চ শিক্ষার দুশো বছর, তপন বাগচী সম্পাদিত, ঢাকা, ২০০৬
৪.     পোস্ট মডার্ণ ভাবনা ও অন্যান্য, পার্থপ্রতীম বন্দ্যোপাধ্যায়, ১৯৯৭

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন